

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের পোশাক শিল্প বিকাশের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা। এ সময় দেশের বস্ত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, রফতানি সম্ভাবনা এবং এ খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা তাদের শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সমস্যাগুলোর সমাধানে তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাবনাও উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেন।বিজিএমইএর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এগুলো দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা, তাই সবকিছু সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে। তবে পোশাক শিল্পের যেসব সমস্যা এখনই সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে বিজিএমইএর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে এবং দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। এ লক্ষ্যেই আমাদের সরকার এ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে। উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বিজিএমইএর প্রতিনিধি দলকে বলেন, ‘এ শিল্পের বিকাশে যা যা করা দরকার, সরকার তা করবে। জনগণের সমস্যা এবং আপনাদের সমস্যার সমাধান করতেই এ সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বৈঠক শেষে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি আয় বৃদ্ধিতে পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বিজিএমইএর উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা, সচল কারখানাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, নীতিগত সহায়তা সহজীকরণ এবং বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের ধারাবাহিক নীতিসহায়তার আশ্বাস দেন। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শ্রম উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেনসহ বিজিএমইএর অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিটিএমএ নেতাদের সাক্ষাৎ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা। গতকাল সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে দেশের বস্ত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, রফতানি সম্ভাবনা এবং এ খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্র শিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চান। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি আয় বৃদ্ধিতে বস্ত্র শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। বৈঠকে বস্ত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন হয়েছে বলেও জানান উপ-প্রেস সচিব।বিটিএমএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বিটিএমএর উপস্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এ সময়ে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সহসভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, বাদশা মিয়া ছাড়াও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া, মুন্নু ফ্যাব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।