
প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
পদ্মা নদীর ভাঙন পরিদর্শনে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস

জহুরুল ইসলাম, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর চলমান ভাঙনকবলিত এলাকা শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। এ সময় তিনি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহাজান আলী, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য মো. শিহাবুল ইসলাম মেম্বার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জুয়েল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এ সময় ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, "পদ্মা নদীর ভাঙন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকট। প্রতিনিয়ত মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।"
তিনি বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও টেকসই ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, "পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে। তাই জনগণের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।"
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চলমান নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান দাবি করেন। তারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী উদ্যোগের পরিবর্তে স্থায়ী ও বিজ্ঞানভিত্তিক নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন
Copyright © 2026 দৈনিক গণবার্তা. All rights reserved.