

এম,শাহজাহান : শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৮০ভাগ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিনিয়ত কৃষি কাজ করেই চলে তাদের সংসার। এতে করে তারা ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষিতে। জানাগেছে, চলতি ইরিবোরো মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায়, নেই সেচ সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধানের বাম্পার ফলনের আশাবাদী এ উপজেলার কৃষকরা। নলকুড়া ইউনিয়নের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি ইরিবোরো মৌসুমে পর্যায়ক্রমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে তাই ক্ষেতে পানির সংকট নেই। হাতীবান্ধা ইউনিয়নের কৃষক ছাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ধানের চারা রোপণের পর ২/৩ বার সেচ দিয়েছি তারপর থেকে আল্লাহর দেয়া বৃষ্টির পানিই পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্ষেতে জমে আছে, আশা করি ধান কাটার আগ পর্যন্ত ক্ষেতে আর সেচ দিতে হবেনা।
গজারীকুড়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, জমিতে মাশাআল্লাহ পানির কোন সমস্যা নেই কিন্তু ইঁদুরে ধানগাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে কীটনাশক ব্যবহার করেও ইঁদুর দমন করতে পারছিনা, ফাঁদ পেতে এপর্যন্ত ৭টি ইঁদুর মেরেছি তারপরেও ইঁদুরের উপদ্রব কমছেনা।
গৌরীপুর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষকের সাথে এবিষয়ে কথা হলে তার বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সেচ পাম্পের পানির জন্য হাহাকার পড়েনি, তবে শিলাবৃষ্টিসহ বৃষ্টিপাতের কারণে ধান গাছে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিতে পারে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম গত ৩০ মার্চ গৌরীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, আমি নিয়মিত উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কৃষকদের কৃষি মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছি আশা করি কৃষকেরা সঠিকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করলে ধান গাছে রোগ বালাইয়ের প্রভাব পড়বেনা।
তাছাড়া গৌরীপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে কৃষকদের সাথে কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দেই তারপরেও কৃষকেরা যদি আমার পরামর্শ না শুনে তাহলে সেটা কৃষকদের ব্যর্থতা। ওই সময় পূর্ব গজারীকূড়া গ্রামের কৃষক লিটন মিয়াকে এক বিঘা ধানের জমিতে প্রয়োজনীয় এমওপি, সালফার, থিয়োভিট, ও কীটনাশক, ব্যাবহারের পরিমাণ বুঝিয়ে পরামর্শ দেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি ইরিবোরো মৌসুমে এ উপজেলায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ উপজেলায় লক্ষমাত্রা ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।