

স্টাফ রিপোর্টার: শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত ও সময়সীমাহীন যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন।ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলবে না বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (২ মার্চ) ফক্স নিউজের হ্যানিটি অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার ধারণা, কিছুটা সময় ধরে এ যুদ্ধ স্থায়ী হতে পারে। তবে এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়। খবর রয়টার্স।শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত ও সময়সীমাহীন যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন।এদিকে ইসরায়েল আবারও লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মিলিশিয়াদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরানও এর পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বিমান চলাচল অচল হয়ে পড়েছে।ইসরায়েলি লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি এক ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সামরিক অভিযানের সময়কাল পরিবর্তিত হতে পারে। তারা ইতোমধ্যে কয়েক সপ্তাহের একটি সাধারণ সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।ইসরায়েল ইরানে স্থল সেনা মোতায়েন করতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শোশানি বলেন, সেটির সম্ভাবনা কম। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে আরও সেনা মোতায়েন করেছে। সম্মুখ প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে সীমান্তের কাছে বিভিন্ন পয়েন্টে সেনারা অবস্থান করছে।এর মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠিন আঘাত আসা এখনও বাকি বলে হুঁশিয়ারি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।যুক্তরাষ্ট্র কতদিন ইরানে নিযুক্ত থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা মূলত এ অভিযানের মূল লক্ষ্য। আর তা স্থল সেনা মোতায়েন ছাড়াই অর্জন করা সম্ভব। ট্রাম্প সোমবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নস্যাৎ করতেই এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার কথা অস্বীকার করেছে; বরং তাদের দাবি, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ইরানে ১,২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ১১টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে। সপ্তাহের শেষে কুয়েতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের ওপর এ হামলা ট্রাম্পের চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, চারজন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মাত্র একজন ইরানে হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থ্যাৎ মাত্র ২৫ শতাংশ নাগরিক ইরানের ওপর এই হামলাকে সমর্থন করছে। এই চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। সাধারণত দুবাই বিমানবন্দর দিয়ে দিনে এক হাজারেরও বেশি ফ্লাইট চলাচল করে। টানা চার দিন ধরে বিশ্বের এই ব্যস্ততম বিমান বন্দর বন্ধ থাকায় হাজারো যাত্রী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম ক্রমশ বাড়ছে। এছাড়া সেখানে চলাচল করা জাহাজগুলোতে তেহরান আঘাত হানায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে।