

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় ঝুলে রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ খাতে এখনো প্রায় ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন রয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা ও রফতানি আয় কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক খাতে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রফতানির বিপরীতে প্রাপ্য নগদ সহায়তার বকেয়া ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ছাড়ের সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ। একই সঙ্গে ঈদুল ফিতরে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ঋণ সহায়তা চেয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী। বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা এসব সহায়তা চেয়েছেন। বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা ও দরপতন, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি, ভাষা দিবস প্রভৃতি কারণে ২৮ দিনের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদন কার্যদিবস মাত্র ১৯ দিনে নেমে এসেছে। এতে করে নিয়মিত শিপমেন্ট বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কারখানাগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়তে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় ঝুলে রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ খাতে এখনো প্রায় ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ অর্থ দ্রুত ছাড় করা হলে কারখানাগুলোর চলমান তারল্য সংকট অনেকটাই নিরসন হবে। নেতারা নগদ সহায়তা ছাড়ের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিজিএমইএ কর্তৃক প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী এসএমই খাতের যেসব প্রতিষ্ঠান নগদ সহায়তার অর্থ না পেয়ে আর্থিক চাপে রয়েছে, তাদের অনুকূলে আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ছাড় করা প্রয়োজন। এতে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো টিকে থাকার সুযোগ পাবে। বৈঠকে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের সুবিধার্থে বিশেষ বিবেচনায় দুই মাসের মজুরির সমপরিমাণ ঋণ দেওয়া, তিন মাস গ্রেস পিরিয়ড রেখে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।পাশাপাশি নীতি সহায়তার অংশ হিসেবে প্যাকিং ক্রেডিট (পিসি) সুবিধা পুনরায় চালু করা এবং এর সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল ৫,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করারও দাবি জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পোশাক কারখানাগুলোর, বিশেষ করে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ সহায়তার অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ছাড় করা এবং আসন্ন ঈদে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কারখানাগুলোর তারল্য সংকট দূর করতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।