

মোঃ মেহেদী হাসান: পঞ্চগড়–২ (দেবীগঞ্জ–বোদা) আসনে ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত আওয়ামী লীগ–বিএনপি দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে এবার নির্বাচন দাঁড়িয়েছে একেবারে ভিন্ন বাস্তবতায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত, বিএনপি বনাম জামায়াত।
এই আসনে আনুমানিক ভোটারদের একটি অংশ অতীতে আওয়ামী লীগমুখী ছিল। সেই ভোট এবার নির্দিষ্ট কোনো দলে বাঁধা না থাকায় তৈরি হয়েছে একটি বড় ‘ফ্রি ভোটব্যাংক’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফল।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা ও শক্তির জায়গা
বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ
ঐতিহ্যগত বিরোধী ভোটব্যাংক, দলীয় নেটওয়ার্ক ও পরিবর্তনের বার্তা বিএনপিকে এগিয়ে রেখেছে। বোদা ও দেবীগঞ্জে বিএনপির উপস্থিতি তুলনামূলক শক্ত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি)
সাংগঠনিকভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মীসমর্থন, গ্রামভিত্তিক ধর্মীয় ভোট এবং জাগপা প্রার্থী আল রাশেদ প্রধানের সরে দাঁড়ানো জামায়াতের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
জাতীয় পার্টি মো. লুৎফর রহমান রিপন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. কামরুল হাসান প্রধান এই দুই প্রার্থী কিছু এলাকায় প্রভাব রাখলেও মূল লড়াইয়ে তারা নির্ধারক নয়। তবে তারা বিএনপি বা জামায়াত, যে কোনো পক্ষের ভোট কেটে নিতে পারেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি মোজাহার হোসেনের ছেলে মাহমুদ হাসান সুমন সীমিত পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারেন, যা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলে ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ভোট অঙ্কের সম্ভাব্য দৃশ্যপট
যদি আওয়ামী লীগঘেঁষা ভোটের বড় অংশ বিএনপির দিকে যায়, তাহলে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
আর যদি সেই ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ ধর্মভিত্তিক ও জোট রাজনীতির কারণে জামায়াতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে জামায়াত অপ্রত্যাশিত চমক দেখাতে পারে।
কম ভোটার উপস্থিতি হলে জামায়াতের সংগঠিত ভোট বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
বেশি ভোটার উপস্থিতি হলে বিএনপি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সব দিক বিবেচনায় পঞ্চগড়–২ আসনের নির্বাচন এবার নিছক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তার পরীক্ষা। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী, উভয় পক্ষই শেষ মুহূর্তে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে। ভোটের দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি যে কোনো দিকে মোড় নিতে পারে।
এক কথায়, পঞ্চগড়–২ আসনে ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নিশ্চিত কিছুই বলা যাচ্ছে না, আর সেটাই এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।