স্টাফ রিপোর্টার : এহুদ ওলমার্ট বলেন, ‘এটি একটি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প হবে। দুঃখিত, কিন্তু এর অন্য কোনো শব্দ নেই। যদি তাদের সেখানে জোর করে পাঠানো হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে জাতিগত নির্মূলের অংশ হিসেবে দেখা হবে। ইসরায়েলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট কঠোর ভাষায় বলেছেন, গাজার রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপের ওপর ‘মানবিক শহর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা আসলে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ এবং এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ‘জাতিগত নির্মূল’। খবর দ্য গার্ডিয়ান। ওলমার্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসরায়েল এরইমধ্যে গাজা ও পশ্চিম তীরে যুদ্ধাপরাধ করছে। এই নতুন পরিকল্পনা সেই অপরাধকে আরো উগ্র রূপে দেবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণ গাজার রাফাহতে একটি ‘মানবিক শহর’ নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেখানে প্রাথমিকভাবে ৬ লাখ মানুষ এবং পরে পুরো ফিলিস্তিনি জনগণকে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাটজের ভাষ্য অনুযায়ী, একবার এই শহরে ফিলিস্তিনিদের নেয়া হলে তারা আর বাইরে যেতে পারবে না। কেবল অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়ার অনুমতি থাকবে। এহুদ ওলমার্ট বলেন, ‘এটি একটি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প হবে। দুঃখিত, কিন্তু এর অন্য কোনো শব্দ নেই। যদি তাদের সেখানে জোর করে পাঠানো হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে জাতিগত নির্মূলের অংশ হিসেবে দেখা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘যখন সরকার নিজেদের মুখে বলে যে তারা গাজাকে পরিষ্কার করবে, তখন এই কথিত মানবিক প্রকল্পকে আর বিশ্বাস করা যায় না। এটি ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে ফেলার এবং নির্মূলের চেষ্টা। ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, কাটজের প্রকল্পকে সমর্থন করেছেন। এই ইস্যুতে গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায়ও বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এহুদ ওলমার্ট জানান, তিনি ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের ওপর সামরিক অভিযানকে সমর্থন করলেও পরবর্তীতে যখন ইসরায়েল সরকার ‘নির্দয় ও প্রকাশ্যভাবে’ শান্তি আলোচনা ছেড়ে যায়, তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে দেশটি যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ‘আমি লজ্জিত যে আত্মরক্ষার যুদ্ধ এমন কিছুতে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। ওলমার্ট বলেন, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু কোনো পূর্বনির্ধারিত নির্দেশের ফলে হচ্ছে না বরং সেনাবাহিনীর উদাসীনতার কারণে এসব ঘটছে। তিনি বলেন, ‘সরাসরি কেউ কি এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল? না। তবে তারা জেনেও চোখ বুঁজে থেকেছে। পশ্চিম তীরেও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেছেন ওলমার্ট। সম্প্রতি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি, যাদের একজন মার্কিন নাগরিক। এই ধরনের হামলাকে তিনি ‘অমার্জনীয় যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দেন। ওলমার্ট বলেন, ‘তারা এমনভাবে বারবার হামলা চালাচ্ছে যে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন উন্মত্ততা নয়। এটি সরকার ও সেনাবাহিনীর মদদে সংগঠিত অপরাধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের চরমপন্থী মন্ত্রীরা, যারা গাজা ও পশ্চিম তীরে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে এবং নতুন বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, তারা দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। ‘এরা বাইরের কোনো শত্রু নয়, এরা আমাদের অভ্যন্তরীণ শত্রু,’ তিনি বলেন।ওলমার্ট স্বীকার করেন, এই সহিংসতার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে। ‘আমরা সবকিছুকে ইহুদিবিদ্বেষ বলে ছাড় দিয়ে দেই। আমি মনে করি না সব মানুষ শুধুমাত্র ইহুদিবিদ্বেষী। অনেকে এই সহিংসতা দেখে ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো বাস্তব প্রতিরোধ না থাকায় এখন আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন। ‘এই সরকারকে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে হবে। তবে এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নেতানিয়াহুর মনোনয়ন ওলমার্টকে হতবাক করেছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন আপনার হাতে হাজার হাজার মানুষের রক্ত, তখন এই ভণ্ডামি আর মুখোশে ঢেকে রাখা যায় না।