

গোলাম দস্তগীর খান ছামিন : নতুন রূপে আবারও নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সিলেটের জালালাবাদ পার্ক। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের পর ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’ নামে পার্কটি উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। শিশুদের খেলাধুলা, বয়স্কদের হাঁটাচলা ও নগরবাসীর অবসর কাটানোর উপযোগী করে পার্কটি গড়ে তোলা হবে।পার্কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে দ্রুত পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আমরা এই পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করছি। তবে তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে। শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করে পার্কটি সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি পার্কটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে, যাতে নগরবাসী এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।’তিনি জানান, পার্কটির নতুন নাম হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’। সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্কের গেট ও সীমানাপ্রাচীরেও পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমানে সীমানাপ্রাচীর এমনভাবে নির্মিত যে বাইরে থেকে পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য বোঝা যায় না। তাই প্রাচীর সংস্কার করে বাইরে থেকেও পার্কের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ তৈরি করা হবে।পার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। দ্রুতই সংস্কারকাজ শুরু হবে।
নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত হাঁটার জায়গা ও মুক্ত পরিবেশের সুযোগ সীমিত উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেট নগরীতে হাঁটাচলার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মুক্ত বাতাসে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও সীমিত। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো কারাগারের জায়গায়ও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিসিকের নিজস্ব মালিকানাধীন জালালাবাদ পার্ক ছাড়া নগরীতে নতুন করে পার্ক করার মতো জায়গা খুব বেশি নেই। ফলে পার্কটি নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়েতে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাঁটাচলা ও অবসর কাটাতে যান। জালালাবাদ সিটি পার্কের সংস্কারকাজ শেষ হলে নগরবাসীকে এখানেও অবসর সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য আসার আহ্বান জানানো হবে।
পার্কটির অবস্থানও এর গুরুত্ব বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সিসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, পার্কটির কাছেই রয়েছে সার্কিট হাউস, ক্বিনব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ি। ফলে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে পার্কটিকে নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’কে সিলেটের একটি সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদারসহ সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।