
প্রকাশের তারিখঃ মে ২৯, ২০২৫, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
লামা হাসপাতালে জরুরী কর্মরত সাকমো ফাতেমা হাসপাতালে সেবা না দিয়ে রোগী দেখেন সরকারি কোয়ার্টারে!

জাহিদ হাসান,লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধি :
বান্দরবানের লামা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মুর্মুষ রোগীরা। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাদের অনেকেই। এদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বেসরকারি হাসপাতালে চলে যান। জরুরী বিভাগে চিকিৎসকের দায়িত্বে ছিলেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিবি ফাতেমা। প্রায় এক ঘন্টা ধরে তিনি জরুরী বিভাগে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। বুধবার (২৮ মে) বিকাল ৪টার দিকে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। সরেজমিনে গিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা জরুরী বিভাগের ভেতরে ৭/৮জন রোগীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এদের কেউ কেউ গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, অনেকেই বিভিন্ন দূর্ঘটনায় আহত রোগী। জরুরী বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রায় ১ ঘন্টা ধরে জরুরী বিভাগে অনুপস্থিত কর্তব্যরত উপ- সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিবি ফাতেমা। ওই একঘন্টা তিনি হাসপাতালে কোয়ার্টারে বসে রোগী দেখেন বলে জানা গেছে। তবে তাকে জরুরী বিভাগের কর্মরত অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদ ফোন দিলে তিনি কিছুক্ষন পরে আসবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে জরুরী বিভাগের অন্য রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে দেখা যায়। এরপর বিকাল ৫টায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আসেন কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিবি ফাতেমা। তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয় কর্তব্যরত সময়ের ১ঘন্টা কোথায় ছিলেন? উত্তরে তিনি জানান, এখন রোগী দেখার সময় নয়। সকাল-১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতাল খোলা ছিল ঐসময় রোগী আনেননি কেন? এরপর তিনি জরুরী বিভাগে কিছুক্ষন অবস্থান করে আবারও বাহিরে চলে যান। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা লামা বাজারের বাসিন্দা মোঃ মামুন ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমি প্রায় ৩০মিনিট ধরে জরুরী বিভাগে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছি কিন্তু কোন চিকিৎসক নাই। আমি জানতে চাই এই হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক কোথায় থাকেন। চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা মোঃ ইলিয়াস জানান, আমি আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ফোন দিলে তার বাসায় যেতে বলেন, পরে আমি বাসায় গিয়ে ভিজিট দিয়ে আমার স্ত্রীর চিকিৎসা নিই। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদেরও নানা অভিযাগ রয়েছে। তারা জানান, হাসপাতালে যথাসময়ে চিকিৎসক পাওয়া যায় না এখানে। ডিউটি চলাকালে চিকিৎসকরা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখতে যান। জরুরী বিভাগে গিয়ে ডাক্তার কোথায় গেছেন জানতে চাইলে আমাদেরকে বলা হয়, বাহিরে টেবিলে গিয়ে বসেন, ডাক্তার আসতেছে। ডাক্তার ওনার মর্জিমত আসেন আর যান। এ বিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Copyright © 2026 hacked by trenggalek6etar. All rights reserved.