

সোহেল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর, নির্যাতন এবং ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মুন্নি আক্তার (২৮) নামের এক নারী। এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নবীনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুন্নি আক্তার বলেন, তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রাগীপুর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মো. সেলিম মিয়ার মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকের মাধ্যমে নবীনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু ইউসুফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে গত বছরের ৫ জানুয়ারি কাজি অফিসে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ টাকা।
মুন্নির দাবি, বিয়ের পর প্রায় এক বছর ছয় মাস তাঁরা ঢাকায় ভাড়া বাসায় এবং পরবর্তী সময়ে প্রায় তিন মাস ধরে নবীনগর পৌরসভার কলেজপাড়ার ‘বেলজিয়াম হাউজে’ ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর একাধিক স্ত্রী রয়েছে। এরপর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁকে গালাগাল ও মারধর করা হতো। একই সঙ্গে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন জিনিসপত্র এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
মুন্নি আরও বলেন, স্বামীর চাপে তিনি কয়েক দফায় বাবার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র কেনার জন্য অর্থ দেন। টাকা দেওয়ার পর কিছুদিন স্বামী ভালো আচরণ করলেও পরে আবারও টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্রের জন্য চাপ দেওয়া হতো। এতে রাজি না হলে তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ তাঁর। এ সময় তাঁর বাবা-মাকে নিয়েও গালাগাল করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নি আক্তার বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর স্বামী আবারও বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে মারধর করে ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি বাসার কেয়ারটেকারকে জানালে তিনিও তাঁকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মুন্নি।
মুন্নির ভাষ্য, গত তিন দিন ধরে তিনি ওই ভাড়া বাসায় যেতে পারছেন না। তাঁর স্বামী বাসায় তালা লাগিয়ে রেখেছেন। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে তিনি নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নি আক্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান।
এদিকে, মুন্নি আক্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবু ইউসুফ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।