

জহুরুল ইসলাম : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা নতুনপাড়ায় অসহায়, দরিদ্র, দিনমজুর ও বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা এবং চাকরির আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা ও চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তাঁদের হাতে একটি ফরম তুলে দিয়ে ছবি নেওয়া হয়। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁরা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে প্রচার করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি এবং তাঁদের অনেকেই ফরমটির প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতেন না।
ভুক্তভোগী মো. হবিবার প্রামাণিক বলেন, চিকিৎসার জন্য সহায়তা দেওয়ার কথা শুনে গত ১১ সেপ্টেম্বর কয়েকজনের সঙ্গে আমিনুল মাস্টারের বাড়িতে যান তিনি। হাঁটুর সমস্যার কথা জানালে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য ২০০ টাকা এবং পরবর্তীতে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এরপর একটি ফরম তাঁর হাতে দিয়ে ছবি তোলা হয়। কিন্তু পরে কোনো অর্থ না দিয়ে তাঁদের জামায়াতে যোগদানের প্রচার চালানো হয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী মো. আবদুর রাজ্জাকের দাবি, তাঁকে আমিনুল মাস্টারের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কাগজ হাতে দিয়ে ছবি তোলা হয়। পরে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি কোনো অর্থ পাননি। তাঁর ভাষ্য, তিনি কোনো রাজনীতি করেন না এবং জামায়াতে যোগদানের বিষয়টিও তিনি জানতেন না।
ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিক বলেন, কিছুদিন আগে তাঁর পা ভেঙে যায়। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ৪০ হাজার টাকা ও পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি ফরম হাতে নিয়ে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছবি দেখে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে জামায়াতে যোগদানকারী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
নাজিম উদ্দীন নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কম খরচে চিকিৎসার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর ছবি নেওয়া হয়। পরে ওই ছবি ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে।
অন্য এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মোবাইলে টাকা পাঠানোর কথা বলে তাঁর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নেওয়া হয়। পরে তাঁর অনুমতি বা স্বাক্ষর ছাড়াই জামায়াতে ইসলামী-সংক্রান্ত একটি ফরম পূরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আহাদ বলেন, রায়টা ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ইব্রাহিম তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রায়টা ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও মেম্বার প্রার্থী মো. ইব্রাহিম বলেন, “আমিনুল মাস্টার কীভাবে দাওয়াতি কাজ করছেন, সে বিষয়ে আমি বা আমার সভাপতি কিছুই জানি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখে আমি ইউনিয়ন আমিরকে জানিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমিনুল মাস্টারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই ও তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।