

মো: জনি হাসান : গাজীপুরের শ্রীপুরে বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, জমি দখলের চেষ্টা এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কামরুল হাসান আজাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আজাদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কামরুল হাসান আজাদ মাওনা গ্রামের মৃত আশ্রাব আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামে বসবাস করেন। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তৎকালীন তেলিহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মোড়লের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আজাদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আজাদ বিএনপির পরিচয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে মাওনা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে জায়গা পাওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি মাওনা গ্রামের ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন কবিরের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হলে আজাদ সেখানে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কবিরের দাবি, প্রায় ৫০ বছর ধরে তাঁদের পরিবারের দখলে থাকা ওই জমির মালিকানা হঠাৎ করে আজাদ দাবি করেন। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দিয়ে ফোন করিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন কবির বলেন, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে। হঠাৎ করে আজাদ মালিকানা দাবি করে কাজ বন্ধ করে দিতে বলেন। রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কবির আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও শফিকুল ইসলাম মোড়লের মাধ্যমে ওই জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে একই ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি, বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র তৈরি এবং থানায় অভিযোগ দেওয়ার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। কেউ এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আজাদের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় যেন রাজনৈতিক দলের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে কামরুল হাসান আজাদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে বিএনপির সব নেতাকর্মী আছেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে শালিস করছেন। কিন্তু অন্য একটি পক্ষ শালিসের সিদ্ধান্ত মানছেন না।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারেন, সে বিষয়ে দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।