

রুবেল আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, জীবনদর্শন, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে মৌলভীবাজারে নজরুল শতবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় স্কাউট ভবনে জালালাবাদ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ কামাল আহমদ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শেদ আহমদ মুন্না।
অনুষ্ঠানের প্রথমে স্বাগত বক্তব্য দেন উক্ত সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট ড. মোঃ আবু তাহের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আশ্রাফুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্নেল এম আতাউর রহমান পীর এবং সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও নজরুল গবেষক মামুনুর রশীদ।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর লেখনীতে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, শোষিত মানুষের মুক্তি, সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়েছে।তাঁরা আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, অধ্যাপক আসআদুল্লাহ, কবি সুফি চৌধুরী, নাগরি গবেষক মফিক মাহমুদ, অধ্যাপক মুসুম বিল্লাহ, নাট্যকার খালেদ চৌধুরী, আব্দুল বাসিত চৌধুরী,, বীতি চৌধুরী, মোশতাক আহমদ মম, রাসেদা আক্তার, শিক্ষাবিদ ফয়জুর রহমান, খায়রুল আমীন ও বিশিষ্ট ব্যাংকার ও সমাজকর্মী চৌধুরী মোহাম্মাদ মেরাজ , সাংবাদিক মোঃ আব্দুস সালাম ও জহির উদ্দিন সহ স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
আলোচনা সভায় নজরুলের কবিতা, গান, সাহিত্যকর্ম এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির আবহ। বিভিন্ন প্রতিভার অধিকারী কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।