

মো: জনি হাসাব : গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথা বলে এক দোকানদারকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী দোকানদারের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জৈনাবাজার বাউল মোড় এলাকার সাহাবুদ্দিন মার্কেটে তার দোকানে যান এএসআই এমদাদুল হক। এ সময় তিনি দোকানদারকে চোরাই মোবাইল ফোন ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এএসআই এমদাদুল হক জানান, থানায় মোবাইল ফোন ও ৫০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এ কারণে দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয়। তবে মোবাইল ফোন ও ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
একপর্যায়ে গ্রেপ্তারের ভয় ও চাপের মুখে ভুক্তভোগী দোকানদার ধারকর্জ করে নগদ ১০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন। তবে টাকা দেওয়ার সময় কোনো সাক্ষী রাখা হয়নি এবং কোনো লিখিত কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগকারী ব্যক্তির নাম-পরিচয়, জিডি নম্বর কিংবা অভিযোগের কোনো কপিও তাকে দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই এমদাদুল হক প্রথমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। পরে টাকা নেওয়ার প্রমাণের কথা বলা হলে তিনি ১০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ওই টাকা থানায় বা প্রকৃত বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন বলেন, মোবাইল উদ্ধার হলেও দোকানদার বা কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো আইনগত অধিকার পুলিশ কর্মকর্তার নেই। বিষয়টি আমাকেও জানানো হয়নি। আমি বিষয়টি দেখছি। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি শ্রীপুর মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগের (অভিযোগ নং- জ ১৮২৫) বাদী নতুব আলী বলেন, পুলিশ দুই দিন আগে মোবাইল ও টাকা উদ্ধার করলেও তাকে মোবাইলটি দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে স্বাক্ষর রেখে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে চোর শনাক্ত হলেও তার বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া অর্থের হিসাব, টাকা গ্রহণের আইনগত ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।