

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বেআইনি সমাবেশ ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির প্রার্থীর পাশে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মোঃ মানিক হাজীকে। আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নে ২০২৪ সালের আগস্টে দায়ের হওয়া মামলার আসামি এবং অতীত বিতর্কিত ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গফুর চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর এমন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত আদালতের মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট দায়েরকৃত একটি মামলায় মোঃ মানিক হাজীর নাম ৬৭ নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় বেআইনি সমাবেশ, সংঘাত, মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত এবং হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক আশঙ্কাজনক অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, বিগত সময়ে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কালো শোক-পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে মানিক হাজীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও ধামসোনায় বিএনপির রাজনৈতিক উঠান বৈঠক ও নির্বাচনী গণসংযোগে প্রার্থী গফুর চেয়ারম্যানের ঠিক পাশে মানিক হাজীর উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ধামসোনার সচেতন রাজনৈতিক কর্মী ও বিএনপির তৃণমূলের প্রশ্ন—মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গফুর চেয়ারম্যান কি মানিক হাজীর এই বিতর্কিত অতীত ও আইনি ঝামেলা সম্পর্কে অবগত? জানার পরও একজন মামলার আসামিকে কেন নিজের সাথে রাখা হচ্ছে বা তিনি মানিক হাজীকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন কি না—এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করছেন তাঁরা।
রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থ ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দেখা গেলেও, গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ ও রাজনৈতিক স্ববিরোধিতার বিষয়টি জনপরিসরে ব্যাপক চ্যাটের সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঠিক অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ মানিক হাজী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গফুর চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে; তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।