

মোঃ কামাল হোসেন : অভয়নগরে কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, দুই লাখ টাকায় পদ কেনাবেচা’র অভিযোগ। যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন, এমন অভিযোগ থাকা সেলিম রেজা মিন্টু ওরফে মিন্টু শিকদারকে শুভরাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যারা মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত রাজনৈতিক অতীতের একজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে পদটি বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, মিন্টু শিকদার দীর্ঘ সময় অভয়নগর ও পার্শ্ববর্তী খুলনার ফুলতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন। মিন্টু শিকদারের নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টেও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণের ছবি ও বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির একটি পোস্টে তিনি ফুলতলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিলকিস আক্তার ধারার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই দিনে অভয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা রবিন অধিকারী ব্যাচার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আরেকটি পোস্ট দেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ৯ মার্চ গোপীনাথপুর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রবিন অধিকারী ব্যাচার সঙ্গে বসে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আলোচনা করার ছবি পোস্ট করেছিলেন বলেও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মিন্টু সিকদার সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন রাজনীতি করতাম না, নিজের ব্যবসা সঠিক ভাবে চালাতে আওয়ামী লীগের সাথে সুসম্পর্ক বজায় চলেছি, এছাড়া কিছুনা। আমার নামে নাশকতা মামলা রয়েছে। একটি পক্ষ আমাকে ক্ষতি করতে গভীর ষড়যন্ত্র করে চলেছে। দুই লাখ টাকায় পদ কেনাবেচা’র অভিযোগ শুভরাড়া ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনের আগে তাঁরা কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা টি এস আইয়ুবের সঙ্গে দেখা করে মিন্টু শিকদারের রাজনৈতিক অতীত সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, মিন্টু শিকদারকে কমিটিতে না রাখার অনুরোধ জানানো হলেও তৃণমূলের সেই আপত্তি আমলে নেওয়া হয়নি।
একাধিক নেতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কমিটি গঠনের দায়িত্ব ছিল টি এস আইয়ুবের জেলা কৃষক দলের এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভয়নগর ও বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষক দলের কমিটি গঠনের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় নেতা টি এস আইয়ুবের ওপর ছিল। অন্য ছয় উপজেলার কমিটি গঠনের দায়িত্ব ছিল জেলা কমিটির। তিনি বলেন, অভয়নগর ও বাঘারপাড়ার কমিটি কীভাবে করা হয়েছে, তা টি এস আইয়ুব সাহেবই ভালো বলতে পারবেন। তবে তাঁর ঘোষিত কমিটি নিয়ে বিতর্কের কথা আমরাও শুনেছি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা টি এস আইয়ুবের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শুভরাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা একজনকে কৃষক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিচয়ের কাউকে পদ দেওয়া হলে মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হবে। তাঁরা অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিতর্কিত কমিটি পুনর্বিবেচনা এবং যোগ্য ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।