শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮, রাত ১২:২৬

করোনা পরিস্থিতিতে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত বাউফলের ইউএনও জাকির হোসেন

 

শাহিন হোসেন ॥ মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালী জেলার বাউফলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন। করোনা ঝুকি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করলে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ৮মার্চ বাংলাদেশ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দ্রুত বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে পরে। মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সরকারি নির্দেশণায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ঘরে অবস্থান করছেন। এধরণের কঠিন পরিস্থিতে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম ও এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন এবং মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজেই দায়িত্ব নিয়ে সরকারি ত্রাণ পৌছে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছে।

ইউএনও জাকির হোসেন সরকার ঘোষিত হোম কোয়ারেন্টাইন ও লক ডাউন বাস্তবায়ন করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা বিদেশ অথবা কভিড-১৯ আক্রান্ত এলাকা থেকে বাউফলে এসেছেন কিংবা করোনা উপসর্গ রয়েছে তাদের কমপক্ষে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছেন। যেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে ওই এলাকা লক ডাউন ঘোষণা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশণা প্রদান করছেন তিনি।

বাউফলের একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ইউএনও জাকির হোসেন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত গরীব, অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও প্রবীন ব্যক্তিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে তিনি সমান তালে পরিশ্রম করছেন। সাহায্য প্রার্থী কেহই তাঁর কাছ থেকে খালি হাতে ফেরৎ যায়নি।

বাউফল উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির এক সদস্য জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন প্রতিটা হাট-বাজার মনিটরিং করছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এবং জনসমাগম কিংবা আড্ডা রোধ করতে বিভিন্ন জায়গায় নিজে উপস্থিত হয়ে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তুলছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিধি বাস্তবায়ন এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম নিয়ন্ত্রন রাখতে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার মনিটরিং করার সাথে সাথে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন ইউএনও জাকির হোসেন।

উপজেলার কালাইয়া ও বাউফল ইউনিয়নের একাধিক দরিদ্র পরিবার জানান, ইউএনও জাকির হোসেন আমাদের খোজ-খবর নিচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত আমাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছেন।

বাউফল পৌরসভার এক আচার বিক্রেতা জানান, আমি বাউফলের বিভিন্ন জায়গায় আচার বিক্রি করে সংসার চালাই। করোনার প্রভাবে আচার বিক্রি প্রায় বন্ধ। এমতাবস্থায় আমার সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। ইউএনও স্যার আমাকে ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করেছেন। এজন্য আমি সরকার ও ইউএনও স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর মতে বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছেয়ে যাওয়া নভেল করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কভিড-১৯ এর উচ্চ ঝুকির দেশ গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আমাদের দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা খুবই কম। আর সামনের দিনগুলো ভয়াবহ। তাই জনসাধারণকে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আমি সাধ্যমতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পর্যায়ক্রমে প্রতিটা ইউনিয়নে ইউনিয়নে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই।

সচেতন মহলের ধারণা বাউফলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনের মত উদ্যামী ও পরিশ্রমী প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই তাদের মেধা, মননশীল চেতনা, মানবতা ও দেশ প্রেম দিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

Developed by: NEXTZEN LIMITED