রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭, সকাল ৭:৪২
শিরোনাম :
মুলাদীতে থানা পুলিশের উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ শিশুদের জীবনকে আলোকিত ও সুন্দর হিসেবে গড়ে তুলুন : প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও কর্ম থেকে রাজনীতিবিদদের শিক্ষা নেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে দশ দিনের কর্মসূচি আজ থেকে শুরু মুলাদীতে শিশুদের জন্য ব্যতিক্রম কর্মসূচি ‘রং তুলিতে বঙ্গবন্ধু’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র ৭ই মার্চের ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে পরিণত হয়েছিলো: তথ্য মন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় শীর্ষ তিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী গবেষণা ও বিজ্ঞানের বিবর্তন দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী

দৃঢ় মনোবল আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা স্ব-পরিবারে করোনা জয় করেছি : ইউএনও শুভ্রা দাস

গণবার্তা রিপোর্ট ॥ করোনা যুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাস বলেন, করোনাকে ভয় নয়, দৃঢ় মনোবল আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা স্ব-পরিবারে করোনাকে জয় করতে পেরেছি। সাম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান। যেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংবাদে অনেক পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে, আক্রান্তদের দূরে সড়িয়ে দেয় সেখানে ইউএনও শুভ্রা দাসের পরিবারের ভূমিকা ছিলো সম্পূর্ণ বিপরীত। করোনার ভয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে তারা হাসতে খেলতেই স্ব-পরিবারের করোনা মুক্ত হয়েছেন।

জানাগেছে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাসের স্বামী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে’র করোনা শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে শুভ্রা দাসসহ আরও ৬জনের করোনা পজেটিভ আসে। কিন্তু তারা আলাদা না হয়ে একসাথে করোনা মোকাবিলা করে করোনা জয় করেছেন। সর্বশেষ করোনা রিপোর্টে তাদের ৭জনেরই নেগেটিভ এসেছে।

 

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাসের করোনা জয়ের গল্পটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

করোনা প্রার্দুভাবের পর থেকে শুধু আপন মানুষের দূরে সরে যাওয়ার সংবাদে যারপরনাই হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। কিন্তু আমাদের গল্পটা সম্পূর্নই বিপরীত।

প্রথমে পিজুস চন্দ্র দে এর করোনা পজেটিভ হওয়ার পর পরিবারের সবাই হতাশ হয়ে পড়ি। আইসোলেশন এমনভাবে মেইনটেইন করা হচ্ছিল যে আমরা ওর রুমেও যেতে পারছিলাম না। এখানে আমরা বলতে আমি, আমার শাশুড়ি নিভা রানী দে, আমার দেবর রাজিব কুমার দে, জা তিন্নি, ছোট্ট তুর্ণ দে, আর দুই ভাগ্নী পরিনীতা পূজা ও তৃষ্ণা দে।

পিজুসের পজেটিভ হওয়ার দুই দিন পর আমার, রাজুর, তিন্নি, তূর্ণ ও পূজা’র করোনা পজেটিভ হলো। মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। এবার মা ও তৃষ্ণা কে আলাদা করার পালা। কিন্তু তারা একদম আলাদা হতে রাজি নয়। তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যা হবে সবাই একসাথে মোকাবিলা করবো। আমাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন পারিবারিক বন্ধু ডা. প্রদীপ বকশী। তার পরামর্শে আমরা ঔষধ গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের সময়টাকে আনন্দঘন রাখার জন্য ছোট ছোট কিছু বিনোদনের আয়োজন করলাম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সবাই মিলে গান করা, মুনই হেইস্ট ওয়েব সিরিজ দেখা – যার টান টান উত্তেজনা আমাদের মাথা থেকে করোনা’র দুশ্চিন্তা আউট করে দেয়। বাদ পড়লো তূর্ণ। ওকে খুশি রাখতে দুই বেলা নিয়ম করে লুডু খেলা আর মোটু-পাতলু কার্টুন দেখা।

এরমধ্যে মায়ের করোনা পজিটিভ আসে। আমরা আবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। কিন্তু মায়ের মনোবল ছিল সবার থেকে দৃঢ়। তাই তাকে আমরা জানতেই দেই নি। আমাদের কারনে বাড়ির অন্যরা আক্রান্ত হ’লো অথচ এটা নিয়ে তাদের কোন দ্বিধা ছিল না। আরও অবাক ব্যাপার তৃষ্ণা এতজন করোনা রোগীর মধ্যে থেকেও ছিল কোভিড নেগেটিভ এবং নিঃসংকোচে আমাদের সবার সেবা করে গেছে।

করোনা আমাদের আলাদা করতে পারে নাই, একসাথে ছিলাম। ভাগ্যকে মেনে নিয়েছিলাম। তাই করোনার ভয় কে তুচ্ছ জ্ঞান করেছি। আমরা হাসতে খেলতেই করোনা জয় করেছি।

দিনের পর দিন যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হয়েছে, চোখের সামনে দেখেছি মানুষ প্রিয়জনের লাশ ফেলে পালিয়েছে। কিন্তু তাতেই কি সবাই বেঁচে যাচ্ছে? যদিও বা বাঁচলো; কি হবে তেমন করে একলা বেঁচে?

আমি সৌভাগ্যবান যে এমন একটা পরিবার পেয়েছি যেখানে সুখে দুঃখে সবাই একসাথে থাকে। আর বাইরে থেকেও শুভ কামনা পেয়েছি অনেক। মানুষের ভালবাসা টের পেয়েছি প্রতিক্ষণ। আপনাদের সবার কাছে আমি ও আমার পরিবার অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।

ভালবাসার জয় হোক।
সকলে সাবধানে থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

শুভ্রা দাস
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মুলাদী, বরিশাল।

Developed by: NEXTZEN LIMITED