রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭, সকাল ৬:২০
শিরোনাম :
মুলাদীতে থানা পুলিশের উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ শিশুদের জীবনকে আলোকিত ও সুন্দর হিসেবে গড়ে তুলুন : প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও কর্ম থেকে রাজনীতিবিদদের শিক্ষা নেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে দশ দিনের কর্মসূচি আজ থেকে শুরু মুলাদীতে শিশুদের জন্য ব্যতিক্রম কর্মসূচি ‘রং তুলিতে বঙ্গবন্ধু’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র ৭ই মার্চের ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে পরিণত হয়েছিলো: তথ্য মন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় শীর্ষ তিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী গবেষণা ও বিজ্ঞানের বিবর্তন দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী

চোখ ভালো রাখতে চশমারও যত্ন চাই

গণবার্তা ডেস্ক ॥ প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭৫ শতাংশই দৃষ্টিসমস্যা সংশোধনের জন্য চশমা ব্যবহার করে থাকেন। অল্পবয়সীদের প্রায় ২৫ শতাংশ দূরদৃষ্টি সংশোধনের জন্য চশমা ব্যবহার করে। চশমা ব্যবহার করলেই যে চোখ ভালো হয়ে যায় তা নয়, তবে চশমা ব্যবহারের নিয়মকানুন মানলে চোখের আরো ক্ষতি কমানো যায়। লিখেছেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল কাদের
চশমা নিজে দেখে না, স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষকে ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করে। তবে সৌন্দর্যের জন্যও অনেকে চশমা ব্যবহার করতে পারে। সাধারণত মানুষের কাছে দেখা বা দূরে দেখার সমস্যা হয়। বয়স্করা কাছের জিনিস ভালো দেখতে পায় না, অল্পবয়সীরা দূরের বস্তু। এর বাইরেও চোখের আরো কিছু সমস্যার জন্য চশমা ব্যবহার করতে হতে পারে। চশমার দুটি অংশ। একটি ফ্রেম আর অন্যটি গ্লাস। পাওয়ার বা দেখতে সাহায্য করার জন্য গ্লাস কাজ করে। আর ফ্রেম ওই গ্লাসকে নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রাখে।
চশমার ধরন : চশমা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন—পাওয়ার চশমা, রোদ চশমা ও নিরাপত্তামূলক চশমা।
পাওয়ার চশমা : এই চশমা চোখের পাওয়ার বা দৃষ্টিজনিত অসুবিধা ঠিক করতে সাহায্য করে। যাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি কম থাকে, তারাই এই চশমা ব্যবহার করে থাকে। সাধারণত দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দুই ধরনের। কেউ দূরে কম দেখলে তাদের জন্য এক ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হয়। এটাকে বলা হয় ইউনিফোকাল চশমা। এই চশমা সব সময় ব্যবহার করা ভালো। সাধারণত অল্পবয়সীরা এ সমস্যায় বেশি পড়ে।
আরেক ধরনের সমস্যায় মানুষ দূরের বস্তু ভালো দেখতে পায়, কিন্তু কাছের বস্তু ভালো দেখতে পায় না। সাধারণত ৪০ বছর পার হয়ে গেলেই এ সমস্যা দেখা দেয় ও এটাকে বলা হয় চালশে। তখন তারা এই চশমাটা শুধু কাছে দেখার জন্য ব্যবহার করে। এটাকে বলে রিডিং গ্লাস। এই চশমাটা শুধু পড়াশোনা ও কাছের কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। সব সময় ব্যবহার করার দরকার নেই।
আবার কারো কারো কাছে ও দূরে—উভয় দৃষ্টিতেই স্বল্পতা দেখা যায়। তারা ঠিক দূরেও ভালো দেখে না, কাছেও ভালো দেখে না। তাদের জন্য যে চশমা ব্যবহার করা হয় তাকে বাইফোকাল অথবা মাল্টিফোকাল বলা হয়। এই চশমার ওপরের অংশ দূরে দেখার জন্য আর নিচের অংশ কাছে দেখার জন্য সাহায্য করে।
পাওয়ার চশমা ব্যবহার করে চোখের দৃষ্টিকে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা হয়। যেমন—যাদের দৃষ্টিশক্তি বেশি, তাদের চশমায় মাইনাস পাওয়ার (অবতল লেন্স) দেওয়া হয়। যাদের দৃষ্টিশক্তি কম তাদের চশমায় প্লাস পাওয়ার (উত্তল লেন্স) দেওয়া হয়। চশমা দিয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমবেশি করা যায় না, কিন্তু নিউট্রালাইস বা নিরপেক্ষ করা হয়, যাতে সে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারে।
রোদ চশমা : রোদ চশমা সাধারণত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতির হাত থেকে চোখ নিরাপদ রাখতে ব্যবহূত হয়। এটা সব সময় যে রঙিন হয় তা নয়। কিছু চশমা আছে, যা দেখতে সাধারণ চশমার মতোই; কিন্তু রোদে গেলে কালচে হয়। এটা ফটোক্রোমাটিক বা অটো চশমা নামে পরিচিত। যদিও রোদ চশমা বললে ফ্যাশন বেশি বোঝানো হয়, বাস্তবে এর কিছু জরুরি কাজ আছে। যেমন—যারা রোদে অতিসংবেদনশীল (মাইগ্রেনের রোগী), তারা সংবেদনশীলতাজনিত অসুখ থেকে বাঁচতে এ ধরনের চশমা ব্যবহার করে। চোখের অপারেশনের পরও চোখের দ্রুত সুস্থতার জন্য রোদ চশমার ব্যবহার জরুরি। এ ছাড়া অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব থেকে বাঁচার বিষয় তো আছেই।


নিরাপত্তামূলক বা প্রটেক্টিভ গ্লাস : নিরাপত্তামূলক চশমা বলতে বোঝায়, চোখে আঘাত লাগতে পারে বা চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কিছু থেকে চোখ রক্ষা করতে যে ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হয়। অন্যান্য চশমার তুলনায় এ চশমা অনেক মজবুত হয়, ফ্রেম ও গ্লাস দুটিই আকারে বড় হয়। এ ধরনের চশমা সাধারণত রাসায়নিক নিয়ে ল্যাবরেটরিতে যারা কাজ করে, রোগীর কাজ করার সময় ডেন্টিস্ট, ওয়েল্ডিং কারখানার শ্রমিক, বাইকচালক, নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, কল-কারখানায় কাজ করে এমন মানুষরা ব্যবহার করে থাকে।
চশমার গ্লাস ও ফ্রেম : গ্লাস দেখতে একই রকম মনে হলেও সব সময় কাচের গ্লাস চশমায় ব্যবহার করা হয় না। অনেক সময় প্লাস্টিকের গ্লাস ব্যবহূত হয়। কাচের গ্লাস অনেক সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে ভেঙে চোখের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই বাচ্চাদের ক্ষেত্রে গ্লাসের পরিবর্তে প্লাস্টিকের গ্লাস বেশি পছন্দ করা হয়। আবার চশমার ফ্রেমেরও দুটি ধরন আছে। মেটাল ও নন-মেটাল। বহু মানুষ মেটাল অ্যালার্জিতে ভোগে। তাদের অবশ্যই নন-মেটাল ফ্রেমের চমশা ব্যবহার করতে হবে।
বাচ্চাদের চশমা : জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই একটা শিশু পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারে না। শুরুতে সে বেশ খানিকটা ঝাপসা দেখে। আস্তে আস্তে তার দৃষ্টি ঠিক হয়ে আসে, সে স্পষ্ট দেখতে পারে। এই প্রক্রিয়া দুই মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে ঠিক হয় এবং ছয় বছর বয়সে পুরোপুরি স্থায়িত্ব পায়। এ জন্য যেসব বাচ্চার দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা আছে, তারা এই সময়ের মধ্যে ঠিকমতো দেখতে শেখে না।
যদি সঠিক সময় তাদের চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা করে চশমা অথবা অন্য কোনো উপায় ঠিক করে না দেওয়া হয়, তাহলে পরে সে আর কখনোই স্পষ্ট দেখতে না-ও পারে। এ জন্য বাচ্চার জন্মের পর যদি কোনো সমস্যা চোখে পড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। যদি কোনো দৃশ্যমান সমস্যা না-ও থাকে, তবু দুই বছর বয়সের আগেই একবার চোখের সাধারণত চেকআপ করিয়ে নেওয়া উচিত।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ দেখে চোখের সমস্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন কাছে গিয়ে টিভি দেখা, কোনো কিছু ভালো করে দেখার জন্য চোখ কুঁচকে তাকানো, বারবার দেখার চেষ্টা করা, সূক্ষ্ম কাজ করতে না পারা, চোখ চুলকানো বা চোখ ডলা, ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা ঠিকমতো না দেখা ইত্যাদি।
বাচ্চারা চশমা ব্যবহার করতে চায় না—এটা তাদের স্বভাবসুলভ আচরণ। এ জন্য বাচ্চার মা-বাবাকে সার্বক্ষণিক তদারকি করতে হবে, যাতে সে চশমা ব্যবহার করে। বিশেষ করে যাদের এক চোখের দৃষ্টি স্বাভাবিক আর অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা আছে, তাদের অবশ্যই চশমা পরতে হবে যতটা বেশি সময় সম্ভব। বলা হয়ে থাকে, বাচ্চার যদি চশমা থাকে, তবে সে যতটা সময় জেগে থাকবে ততটা সময় তার এটা ব্যবহার করা উচিত।
প্রত্যেক বাচ্চাকে অবশ্যই অভিজ্ঞ চোখের ডাক্তার দিয়ে চোখ পরীক্ষা করিয়ে স্কুলে ভর্তি করা উচিত। উন্নত সব দেশেই চোখের চিকিৎসার সনদ ছাড়া বাচ্চা স্কুলে ভর্তি হতে পারে না।
চশমা কতক্ষণ পরতে হয় : অনেক মানুষের একটা ধারণা যে চশমা কিছু সময় পড়লে তাদের চোখের পাওয়ার ঠিক হয়ে যাবে। এটা ঠিক নয়, চশমা চোখের পাওয়ার ঠিক করে না, কিন্তু দৃষ্টি ঠিক করতে সহায়তা করে। কে কোন চশমা ব্যবহার করবে তা তার সমস্যা, রুচি ও প্রাত্যহিক কাজের ধরনের ওপর এটা নির্ভর করে। কার জন্য কতক্ষণ চশমা পরা উচিত তা চশমা নেওয়ার সময় ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো করে জেনে নেওয়া উচিত। কারণ সব চশমার ব্যবহার এক রকম নয়, সব চশমা এক কাজের জন্য দেওয়া হয় না।
মনে রাখুন, অভিজ্ঞ চোখের ডাক্তার দেখিয়ে ও অপ্টোমেট্রিস্ট দিয়ে চক্ষু পরীক্ষা করেই কেবল চশমা নেওয়া উচিত।
১ এক হাত ব্যবহার করে চশমা খুললে হাতল বাঁকা হয়ে যায়। লেন্সের পজিশন বদলে যায়। হাতলের শক্তি কমে যায়। এতে সহজেই চশমা খুলে পড়ে যেতে পারে।
২ চশমা চোখ থেকে সরিয়ে মাথার সঙ্গে লাগিয়ে রাখলে গ্লাসের ক্ষতি হয়। চুলে লেগে থাকা তেল, ময়লা, খুশকি ইত্যাদিতে গ্লাস ঝাপসা হয়ে আসে।
৩ চশমা একটু খুলে গেলে বা আলগা হলে এক আঙুল দিয়ে নাকের ঠিক ওপরের অংশে চাপ দিয়ে আগের অবস্থানে চশমা বসিয়ে দিলে নাকের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর পরিবর্তে দুই আঙুল দিয়ে গ্লাসের ওপরে-নিচে ধরে যথাস্থানে বসিয়ে দিন।
৪ হাতের কাছে যা পাবেন তা দিয়েই চশমার কাচ মুছবেন না। বিশেষ করে তোয়ালে, গামছা, রুমাল, টিস্যু—এসব দিয়ে। চশমা মোছার জন্য এক ধরনের মাইক্রোফাইবার কাপড় পাওয়া যায় (যা সাধারণত চশমার সঙ্গে দোকান থেকে দিয়ে থাকে)। এক হাতে ভালো করে চশমা ধরে অন্য হাত দিয়ে পরিষ্কার করুন।
৫ অনেক সময় চশমার কাচে এমন ময়লা জমে বা চশমার কাচের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়। তখন স্পিরিট বা পানি দিয়ে ভেজানো কাপড় দিয়ে চশমা মুছে নিলে দাগ দূর হয়।
৬ কোনো অসুবিধাবোধ না হলেও বছরে অন্তত দুইবার চোখের পাওয়ার চেক করুন। দোকান থেকে চশমা অ্যাডজাস্ট করে নিন। কাচ ঘোলা হয়ে গেলে বদলে নিন।
৭ চশমা যেখানে-সেখানে খুলে রাখবেন না। খুললে তা সব সময়ই বাক্সে রাখুন। রাখার সময় মুছে রাখুন। ব্যবহারের আগে আবার মুছে নিন।

Developed by: NEXTZEN LIMITED